সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

pregnancy-mother.jpg

সুস্থ শিশু অন্তঃসত্ত্বা মায়ের যত্ন-আত্তি

অন্তঃসত্ত্বা মায়ের যত্ম বিষয়ে লিখিত এই ফিচারটি। এতে গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে দরকার গর্ভকালে মায়ের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা। মায়ের পুষ্টি থেকেই ভ্রূণ পুষ্টি পায়। সেজন্য মা যদি উপযুক্ত খাবার, বিশ্রাম ও সঠিক যত্ন না নেন, তবে মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। একজন গর্ভবতী মায়ের যত্ন সাধারণত শারীরিক ও মানসিক দুভাবেই নেয়া যায়। 

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো যাঁরা মা হতে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা ও যত্ন। অনেক বিষয়ই তখন অজানা থাকে। এ জন্য অন্তঃসত্ত্বা মা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মায়ের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক বলে মনে করেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে গর্ভের শিশু ও মায়ের নানা সমস্যা সৃষ্টি হওয়াসহ মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা মায়ের জীবন যাপন
খাদ্য: এই সময়ে নারীর শরীরের ভেতরে আরেকটি মানবশিশু বেড়ে ওঠে এবং সেই শিশুটির খাবারের জোগান মায়ের শরীর থেকেই হয়ে থাকে। এ জন্য মাকে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি খাবার খেতে হবে। এ খাবারগুলো হবে প্রথমত সুষম খাবার। তবে যেহেতু এ অবস্থায় শরীরে লৌহ ও ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন আছে, তাই এ দুটি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। যেমন: দুধ, ডিম, গোশত, ছোট মাছ, শাকসবজি, কলা, কচুর শাক ও কচুর লতি, কাঁচকলা ও ফলমূল ইত্যাদি। আর শাক-সবজি প্রচুর পরিমাণে খেলে নিয়মিত পায়খানা হয়। এতে ক্ষুধা ও খাওয়ার রুচি ভালো থাকে। এছাড়াও তাকে প্রচুর পানি, বেলের শরবত, ইসপগুলের শরবত, পেঁপে খেতে হবে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

পোশাক আশাক: একজন গর্ভবতী মায়ের পোশাক হবে হালকা আর আরামদায়ক এবং সহজে পরা যায় এমন। আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সুতির কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক হবে। সিনথেটিক কাপড় না পরাটাই ভাল। সমান হিলের নিচু জুতা পরতে হবে। গর্ভাবস্থায় সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে মাকে। 

ঘুম: গর্ভবতী মা যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মায়ের ঘুম শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক। প্রতিদিন মাকে দিনে দুই ঘণ্টাসহ মোট ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

ব্যায়াম: শরীর সুস্থ রাখা ও সহজ প্রসবের জন্য হালকা ব্যায়াম করা অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন বিশুদ্ধ বাতাস সেবন করতে হবে। সকাল বেলা খোলা মাঠে বা উদ্যানে হাঁটলে দুটোই এক সঙ্গে হয়ে যাবে।

গোসল: শরীর অসুস্থ না থাকলে প্রায় প্রতিদিনই হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। এতে যেমন রক্ত চলাচল বাড়ে, তেমনি মাংসপেশিও হয় নমনীয়।

নিয়মিত চেকআপ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ সময় চারটি চেকআপ অবশ্যই দরকার। প্রথম চেকআপ ১৬ সপ্তাহে, দ্বিতীয় চেকআপ ২৪-২৮ সপ্তাহে, তৃতীয় চেকআপ ৩২ সপ্তাহে এবং চতুর্থ চেকআপ ৩৬ সপ্তাহে। 

মানসিক স্বাস্থ্য
শরীর ও মনের সঙ্গে রয়েছে এক অভূতপূর্ব যোগ। তাই শারীরিক যত্নের সঙ্গে সঙ্গে তার মানসিক যত্নও নিশ্চিত করতে হবে। সব সময় গর্ভবতী মা যেন হাসি-খুশি ও প্রফুল্ল থাকে, সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এ সময় মাকে ভালো ভালো চিন্তা করতে হবে। ভালো বই পড়তে হবে। আর হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনার কথা তাকে জানানো যাবে না।

আরো যেসব লক্ষণীয়
  • শিশুটি গর্ভে কেমন আছে, কোনো সমস্যা আছে কি না দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাম করতে হবে। তবে প্রয়োজন না হলে ঘন ঘন আলট্রাসনোগ্রাম করানো উচিত নয়। শিশুর নিয়মিত নড়াচড়া অনুভব না করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, কম বয়স, ওষুধ, মাদক, ধূমপান, বিকিরণ, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি গর্ভস্থ সন্তানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে গর্ভপাত, অপরিণত শিশু, কম ওজনধারী শিশু, এমনকি মৃত শিশুরও জন্ম হতে পারে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
  • জন্মকালীন আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের অক্সিজেনের অভাব, বাচনিক ত্রুটি ইত্যাদি দেখা দেয়। তাই ঘরে কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র—যেখানেই বাচ্চা প্রসব করানো হোক না কেন, তাকে অবশ্যই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক বা দাইয়ের মাধ্যমে কার্য সম্পন্ন করতে হবে এবং এ সময় যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Support, Mental, health, Good, Food, care, baby, pregnancy, mother