সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Toothbrush-health-tips.jpg

স্বাস্থ্য তথ্য টুথব্রাশে লুকিয়ে থাকা ৫টি স্বাস্থ্য ঝুঁকি

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অভ্যাস গুলোতে যদি আমরা সামান্য কিছুটা পরিবর্তন আনি এবং কিছুতা সতর্ক থাকি তাহলে খুব সহজেই সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

টুথব্রাশ হচ্ছে মুখ গহ্বরের ভেতরের পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখার একটি যন্ত্র। কিন্তু এই টুথব্রাশ যদি সঠিক ভাবে ব্যবহার করা না হয় তাহলে ব্যাকটেরিয়ার কারনে তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক হতে পারে। 

তাই টুথব্রাশ স্বাস্থ্যের জন্য কিভাবে বিপদজনক হতে পারে এখানে তা উল্লেখ করা হলো:

কোনভাবেই অন্যের টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না:
শরীরের অনেক জীবাণু টুথব্রাশের মাধ্যমে প্রতিরোধ হয়। এসব জীবাণু খুব সহজেই পাকস্থলীতে চলে যেতে পারে এবং সেই সাথে তালু মাধ্যমে সরাসরি রক্তের মাঝে মিশে যেতে পারে যার ফলে খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তাই কোন অবস্থাতেই অন্যের ব্যবহৃত টুথব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

দাঁত ব্রাশ করার সময় টয়লেটের ফ্লাশ করবেন না:
টয়লেটের ভেতরের পানি ফ্লাশ করার সময় প্রায় ৩ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে। এর ফলে টয়লেট থেকে বিপদজনক ব্যাকটেরিয়াও ছড়াতে পারে। তাই ব্রাশ করার সময় বা তার আগে ফ্লাশ করবেন না।

টুথব্রাশের কভার ব্যবহার করবেন না:
শুধুমাত্র যখন ভ্রমনে থাকেন তখন টুথব্রাশে কভার লাগাবেন। এছাড়া অন্য সময় কভার লাগিয়ে রাখবেন না। কারন ব্রাশ করার পর ভেজা অবস্থায় কভার সবসময় লাগিয়ে রাখলে জীবাণু ও ছত্রাকের বিস্তার ঘটতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপদজনক।

টুথব্রাশ অনুভুমিকভাবে ফেলে রাখবেন না:
যদি ব্রাশ করার পর টুথব্রাশ হোল্ডারে খাড়া করে রাখা হয় তবে সেটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এভাবে টুথব্রাশে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু অনুভুমিকভাবে ফেলে রাখলে তা অনেক বেশি সময় ধরে ভেজা থাকে যার কারনে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পুরনো টুথব্রাশ ব্যবহার করবেন না:
সাধারন নিয়ম হচ্ছে টুথব্রাশ ৩/৪ মাসের বেশি ব্যবহার না করা। আর যদি এই সময়ের আগেই টুথব্রাশের আঁশ গুলো নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এর আগেই টুথব্রাশ বদলে ফেলুন। আর যদি কোন কারনে বেশ অনেকদিন অসুস্থ থাকেন বা ঠাণ্ডা লাগার সমস্যায় ভোগেন তাহলে আপনার পুরনো টুথব্রাশটি বদলে ফেলুন। কারন তখন পুরনো টুথব্রাশে থাকা অসংখ্য জীবাণু খুব সহজেই আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অভ্যাস গুলোতে যদি আমরা সামান্য কিছুটা পরিবর্তন আনি এবং কিছুতা সতর্ক থাকি তাহলে খুব সহজেই সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।  

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ) ; মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

টুথব্রাশ, ব্যবহার, স্বাস্থ্য, ব্যাকটেরিয়া, দাঁত, যত্ন