সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

food-preserve-no-fridge.jpg

প্রাকৃতিক উপায় ফ্রিজ ছাড়াই ভালো থাকবে যে সব খাবার

দুধ সংরক্ষণের একটি মাত্র উপায় - তা হলো দুধ ফুটিয়ে এবং এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে। দুধের সঙ্গে এক চা চামচ পরিমাণ মধু মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন।

আমাদের অনেকের বাসায় ফ্রিজ আছে। ফ্রিজে সহজে খাবারের ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না, তাই খাবার থাকে একদম তাজা। কিন্তু তা থাকা সত্ত্বেও খাবার নষ্ট হয়ে যায় যখন ফ্রিজ ঠিক মতো কাজ না করে। দেখা যায় অনেক সময় ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যায় বা কয়েক দিন ধরে ইলেকট্রিসিটি থাকে না ঠিক তখনেই খাবার নষ্ট হয়। ফ্রিজ ছাড়াও খাবার ভালো রাখা যায়, প্রাকৃতিক কিছু উপায়ে।

কিন্তু  ফ্রিজ ছাড়াই আপনার খাবার সংরক্ষণ করতে পারবেন? খাবারকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষণের জন্য মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। আপনিও আপনার খাবার সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে  ফ্রিজ ছাড়া লম্বা সময়ের জন্য টাটকা রাখতে পারেন।

এসব পদ্ধতি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জেনে নিন সেরকম কিছু পদ্ধতি।

মুরগির মাংস: মুরগির মাংস একটু বেশিই খাওয়া হয়। মুরগির মাংসে যাতে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত না হতে পারে সে জন্য পানির পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে। কিছুক্ষণের জন্য মাংস মাইক্রোওয়েভে  রাখুন অথবা ভেজে ফেলুন। এরপর  পাতলা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।

সবজি: সবজি আমাদের নিত্যদিনের খাবার। খাবার তালিকায় এটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই এর সংরক্ষণও জরুরি। আদ্রতার পরিমান কমানোর জন্য সবজি কেটে তা রোদে শুকায়ে নিন। এতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। চাইলে মুরগির মাংসের মতো সবজিও ভেজে রাখতে পারেন, তবে তা ২-৩ দিনের বেশি না।

দুধ: দুধ সংরক্ষণের একটি মাত্র উপায় - তা হলো দুধ ফুটিয়ে এবং এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে। দুধের সঙ্গে এক চা চামচ পরিমাণ মধু মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর ২-৩ দিনের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে তা দিনে অন্তত দুইবার ফুটিয়ে নিন, সকাল এবং সন্ধ্যা। দুধ ফুটানোর পর তাতে মধু মিশিয়ে নেয়া, দুধ সংরক্ষণ করার সবচেয়ে ভালো উপায়।

মাখন এবং জ্যাম: আপনি বাজার থেকে জ্যাম আর বাটার কিনেন তাহলে সেগুলোর মধ্যে কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকে। তাই সেগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যদি আপনি সেগুলো ঘরে তৈরি করেন তবে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই বোতলগুলো ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। বড় একটি  বাটিতে পানি নিন এবং বোতলগুলো তাতে ডুবিয়ে রাখুন।

বিস্কিট এবং স্ন্যাকস: এগুলো এমনিতে সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু নরম বা টাটকা ভাবটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এর থেকে রক্ষা পেতে হলে এয়ার টাইট বক্সে ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখুন যেনো বাতাস-এর মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। আপনি চাইলে পলিথিন ব্যাগে ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে পারেন। এটা হলো সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া সংরক্ষণ পদ্ধতি।

ডিম: যে খাবাবে খুব তাড়াতাড়ি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয় - তার মধ্যে একটি ডিম। তাই আপনি যদি ডিমকে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে দুটি উপায়ে করতে পারেন।
  • ঠান্ডা পানিতে ডিম রাখুন।
  • সিদ্ধ করে বা ভেজে রাখতে পারেন। সিদ্ধ বা ভাজা ডিম একটি বাটিতে রেখে তা কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।

বাদাম: বাহিরে রাখলেও বাদাম খুব সহজেই নষ্ট হয় না। কিন্তু যদি বাদাম আদ্র আবহাওয়ার মধ্যে থাকে তাহলে খুব সহজেই পোকায় আক্রান্ত হয়। পোকার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাদামগুলো রোদে শুকিয়ে নিন, যেন ভেতরের ময়েশ্চার চলে যায়। এরপর এয়ার টাইট বক্সে রাখুন। প্রতিদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বাদাম সংরক্ষণ করুন।

দই: দই এমন একটি খাবার যেটা খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারলে তা কয়েক দিন ভালো থাকে।এর জন্য দইয়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। কারণ মধু খুব ভালো প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ। এটাই হলো সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া প্রিজারভেশন পদ্ধতি।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

fridge, Food, preserve, chicken, vegetables, egg, milk, cookies, no, Natural