সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

20150955f078009f943.jpg

হিট স্ট্রোক হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে হলে

তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যেকোন বয়সের মানুষের হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে, শিশু ও বৃদ্ধদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যাদের শরীর খুব দুর্বল তারাও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

সারাদেশে প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করেছে। এই গরমে ঘরেও শান্তিতে বসে থাকা যাচ্ছেনা। এ গরমে আমাদের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।এই গরমে ঘামের সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়।

ফলে লবণের ঘাটতি দেখা দেয় যা শরীরকে করে তোলে অবসন্ন, পরিশ্রান্ত। হিট স্ট্রোক হচ্ছে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধ্বি পেয়ে সৃষ্টি হওয়া এক প্রকার জটিলতা। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে থাকার ফলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হিটস্ট্রোক হয়।

এ অবস্থায় শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক সময় মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ডিহাইড্রেশন বা পানি শূন্যতা হিট স্ট্রোকের প্রধান কারণ। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রচন্ড গরমে দেহে পানি কমে গিয়ে যেন ডিহাইড্রেশন না হয় তা নিশ্চিত করা ও বেশি গরমে ভারি শারীরিক পরিশ্রমে করা উচিত নয়।

তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যেকোন বয়সের মানুষের হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে, শিশু ও বৃদ্ধদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যাদের শরীর খুব দুর্বল তারাও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন

হিট স্ট্রোক বুঝার লক্ষণঃ 
  • শরীর প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করে আবার হঠাৎ করে ঘাম বন্ধ হয়ে যায়
  • নিঃশ্বাস দ্রুত হয়
  • নাড়ির অস্বাভাবিক স্পন্দন হওয়া অর্থাৎ হঠাৎ ক্ষীণ ও দ্রুত হয়
  • রক্তচাপ কমে যায়
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়
  • হাত পা কাঁপা, শরীরে খিঁচুনি হয়
  • মাথা ঝিমঝিম করা
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • ব্যবহারে অস্বাভাবিকতার প্রকাশ
  • কথা-বার্তায় অসংলগ্ন হওয়া।
স্ট্রোক হলে বা লক্ষণ দেখা দিলে করণীয় কাজ:

একটি থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখুন এবং ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে আসা না পর্যন্ত তাকে ঠান্ডা করা চালিয়ে যান। এই গরমে যতটুকু সম্ভব রোদে কম সময় অবস্থান করতে হবে। শরীর অবসন্ন হওয়া মাত্রই ছায়াযুক্ত বা শীতল কোনও স্থানে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে।

ঠাণ্ডা পানি ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যাতে শরীরের লবণ ও পানির শূন্যতা দূর করতে পারে। অজ্ঞান হলে বা মাথা ঘোরালে মাথায় পানি ঢালতে হবে। যদি তাতেও অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়াও যা কিছু করনীয়ঃ 

১) ধূমপান পরিহার করতে হবে।

২) পপ্রবাহ থেকে বাঁচতে হলে রোদচশমার ব্যবহার করতে হবে।

৩) ঘন ঘন পরিমিত পানি পান করতে হবে।

৪) শরীরকে ঠান্ডা এবং শরীরে বিভিন্ন মৌলের ঘনত্ব ঠিক রাখতে দিনে অন্তত দু’-তিন বার ডাব বা নুন-চিনির সরবত খেতে হবে। স্নান করতে হবে দিনে অন্তত দু’বার।

৫)গোসল করতে হবে দিনে অন্তত দু’বার।

৬) টক দই কিন্তু রোজ খেতেই হবে।

৭) বেশি করে খেতে হবে লাউ, চালকুমড়ো, পেঁপের মতো জলযুক্ত সব্জি।

৮) ফলের মধ্যে শশা, তরমুজ, বেশী বেশী খেতে হবে।

৯) মশলাদার খাবার, ভাজাভুজির খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

১০) ঘণ্টায় ঘণ্টায় পানি বা তরলজাতীয় খাবার খান।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

হিট-স্ট্রোক, গরম, বাঁচার-উপায়, পানি, ছায়া, যত্ন